স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় অবস্থিত একটি মহিলা মাদ্রাসার এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে নিজ প্রতিষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাসান আলী ডাক্তার (৬৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।
আজ রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ব্যস্ততম ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হাসান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের সুযোগ্য সন্তান। তিনি এলাকায় দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ওই কিশোরী শিক্ষার্থীকে উক্ত মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় শিক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জীবিকার তাগিদে শিক্ষার্থীর বাবা-মা ঢাকায় পাড়ি জমান। তবে তাঁরা নিয়মিত প্রতি মাসে গাইবান্ধায় এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন এবং পড়াশোনার যাবতীয় খরচপত্র পরিশোধ করতেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণে আরও উঠে আসে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে মাদ্রাসার পরিচালক হাসান আলী নানা অজুহাতে ওই কিশোরীকে কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক কুচিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী কিশোরী তার অভিভাবককে জানালে তারা সরাসরি পরিচালকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সে সময় অভিযুক্ত পরিচালক নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গর্হিত কাজ আর কখনো করবেন না বলে তাঁদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে গত ২৮ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর সকাল ছয়টার দিকে অভিযুক্ত পরিচালক কৌশলে ওই কিশোরীকে মাদ্রাসাসংলগ্ন তাঁর নিজস্ব আবাসিক কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘৃণ্য ঘটনার কথা বাইরে কাউকে প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং তার মরদেহ চিরতরে গুম করে ফেলার ভয়ভীতি দেখানো হয়। এর পর থেকেই অভিযুক্তের প্রভাবে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার ঢাকায় অবস্থানরত বাবা-মায়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কোনো এক উপায়ে কৌশলে একটি মুঠোফোন ব্যবহার করে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে পুরো বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে গত ৩১ আগস্ট অভিভাবকরা ঢাকায় থেকে দ্রুত গাইবান্ধায় ছুটে আসেন এবং মেয়ের মুখে বিস্তারিত শোনার পর গত ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এসআরবি-১৩ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল গভীর রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শ্যামলী পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসার পরিচালক হাসান আলীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
