স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুরে মিনি পিকআপ ভ্যানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে পাচারকালে রেকর্ড পরিমাণ ৬২ হাজার পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৫০ বোতল উইনসেরেক্স (Wincerex) কোডিনযুক্ত কাফ সিরাপসহ ফারুক হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৯) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মণিরামপুর থানা-পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত ১টি মিনি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মধ্যরাত রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে মণিরামপুর উপজেলার ৯ নম্বর ঝাঁপা ইউনিয়নের ডুমুরখালী-রাজগঞ্জ সড়কের কোমলপুর বাজারস্থ ‘রাফেজা টেলিকম’-এর সামনে পাকা রাস্তার ওপর বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই বিশাল চালান আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা থেকে মিনি পিকআপে বড় একটি মাদকের চালান রাজগঞ্জের দিকে যাচ্ছে— এমন গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সাঈদের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলাম ও এসআই (নিঃ) ওবায়দুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কোমলপুর বাজারে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযানকালে একটি সন্দেহভাজন মিনি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি শুরু করলে চালক কৌশলে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে ধরে ফেলে আটক করে। পরবর্তীতে ধৃত চালকের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে পিকআপ ভ্যানের ড্রাইভিং সিটের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৬২ হাজার পিচ ক্ষতিকারক ও নিশিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৫০ পিচ ভারতীয় নিষিদ্ধ কোডিনযুক্ত উইনসেরেক্স সিরাপ উদ্ধারপূর্বক আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ফারুক হোসেন ওরফে জুয়েল (৩৯) পেশাদার মাদক চোরাকারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, উদ্ধারকৃত চেতনানাশক ট্যাপেন্টাডল ও সিরাপের বাজারমূল্য বিপুল। এ ঘটনায় মণিরামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য গডফাদারদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

