স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে আতা গাছের ডাল কাটার মতো সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর নিভৃত বাড়িতে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার নজিরবিহীন ও নৃশংস অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুর্ধর্ষ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা আনুমানিক ২টার দিকে ভাতুড়িয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছেন নূরনাহার (৫৫) নামের এক নারী। তিনি ওই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজাউল করিমের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আহত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বসতবাড়ির সীমানায় থাকা একটি আতা গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে নূরনাহারের সঙ্গে প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম ও তার মাদকাসক্ত পুত্র আরাফাতের তীব্র তর্কাতর্কি হয়। আজ দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে জহুরুল ও তার ছেলে আরাফাত হাতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বেআইনিভাবে নূরনাহারের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। এ সময় তাঁরা একা পেয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা ও বেদম প্রহার চালায়। হামলায় নূরনাহারের একটি পা মারাত্মকভাবে ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত ও জখমের সৃষ্টি হয়।
আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীদের রোষানলে পড়ে প্রতিবেশী যুবক মাসুমসহ আরও দুজন আহত হন। পরবর্তীতে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় নূরনাহারকে দ্রুত যশোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত জহুরুল ও তার ছেলে আরাফাত অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও বেপরোয়া প্রকৃতির মানুষ। বিশেষ করে আরাফাত স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং চরম মাদকাসক্ত। এলাকা জুড়ে তাদের হেন অপকর্ম নেই যা তারা করে না। মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী গ্রুপের ছত্রছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। একজন নিরপরাধ ও একা নারীর ওপর দিনেদুপুরে এ ধরনের বর্বর পৈশাচিক হামলায় পুরো ভাতুড়িয়া গ্রামে ছি ছি রব উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এ ঘটনায় অপরাধী পিতা-পুত্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, একজন প্রবাসীর অসহায় স্ত্রীর ওপর এহেন মর্মান্তিক নির্যাতনের ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী। সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে অভিযুক্ত জহুরুল ও তার বখাটে পুত্র আরাফাতকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার সুনিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।

