স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক চিকিৎসা ও বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের সমন্বিত জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্বসেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন গবেষক। গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত গবেষকের সংখ্যার দিক বিবেচনা করে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যবিপ্রবি। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।
তালিকায় পেশাগত জীবনের সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘ক্যারিয়ার-লং’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন যবিপ্রবির চার গবেষক। তারা হলেন—কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার ইমরান খান এবং গবেষক সাইফুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও ‘সিঙ্গেল-ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে উপরিউক্ত চারজনের পাশাপাশি আরও সাতজন গবেষক স্থান লাভ করেছেন। তারা হলেন—জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিয়ার রহমান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক সাইবুর রহমান মোল্লা, ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. আমজাদ হোসেন, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিপ্লব হোসেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তানভির আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও গবেষক পার্থ কুমার বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যবিপ্রবির গবেষকদের বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের এ তালিকায় স্থান পাওয়া আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ও বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই এক জোরালো প্রতিফলন।
এই বিশেষ অর্জন সম্পর্কে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় যবিপ্রবির গবেষকরা স্থান করে নেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের শিক্ষকরা দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও গবেষণার মাধ্যমে এই অর্জন করেছেন। তাদের এই সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষকরা যাতে ভবিষ্যতে আরও উৎকর্ষের সাথে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ছবি সংগৃহীত।

