বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু (কলাপাড়া):
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দর খ্যাত মহিপুর থানার ধুলোসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে চাঞ্চল্যকর কৃষক হত্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৯১ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৯ জুলাই প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক আহত হন স্থানীয় বৃদ্ধ কৃষক হারিচ আহম্মদ ওরফে মজিবুর। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে গত ২১ জুলাই মহিপুর থানায় স্থানীয় যুবদল নেতা মো. খলিলুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী মোসাম্মৎ পারুল বেগমসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর গত ২৪ ও ২৫ জুলাই র্যাব-৮ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে হত্যা মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি মো. সালেক ও মো. ছারোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর আইনি সুরক্ষা ও আগাম জামিন নিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিপক্ষের অন্যান্য সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ ১ মাস ১৬ দিন আত্মগোপনে থাকার পর আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যুবদল নেতা খলিলুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুলিশি নিরাপত্তায় নিজ বসতবাড়িতে ফেরেন। তবে বাড়িতে ফিরে তাঁরা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ তছনছ ও ফাঁকা দেখতে পান।
খলিলুর রহমানের স্ত্রী পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বাড়ি খালি করে আত্মগোপনে থাকার সুযোগে গত ২২ ও ২৫ জুলাই রাতে হত্যা মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল আমাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে থাকা ফ্রিজ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ গোয়ালের গরু-ছাগল পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা।”
এ ঘটনায় পারুল বেগম বাদী হয়ে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাইফুল ইসলাম বাবুলসহ ১৯ জনকে আসামি করে একটি সিআর (CR) মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে স্থানীয় থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে লুটপাট ও সিআর মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে হত্যা মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বাবুল বলেন, “পিতার নির্মম হত্যা মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং আপস-রফা করতে প্রতিপক্ষরা আমাদের বিরুদ্ধে এই কাল্পনিক ও সাজানো লুটপাটের মামলা দায়ের করেছে।”
এদিকে হত্যা ও পাল্টা লুটপাটের জোড়া মামলার জেরে নয়াকাটা গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনি জটিলতা ও সংঘাতের ভয়ে উভয় পক্ষের পুরুষ, নারী ও শিশুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, ফলে পুরো এলাকাটি এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ছবি প্রতিবেদক।
