স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনে নজিরবিহীন অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে মো. আশরাফুজ্জামান সাগরকে ক্ষমতার দাপটে সভাপতি মনোনীত করার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন সংক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজ।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় শিওরদাহ বাজার প্রাঙ্গণে এ বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে একটি প্রতিবাদী ঝাড়ুমিছিল বের হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ও বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
উক্ত মানববন্ধনে নির্বাসখোলা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ইমামুল রহমানের সভাপতিত্বে ও শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুমন কবির, শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান কবির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যুবনেতা মুকুল হোসেন, আজগর আলী, স্থানীয় নারী অভিভাবক সাবিনা বেগম, আবেদা বেগম, খাদিজা আক্তার ও লাবনী বেগমসহ আরও অনেকে।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের মূল রেজুলেশন নথি অনুযায়ী গত ৮ সেপ্টেম্বর সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় প্রতিনিধি মো. শাহজালাল, মেহেদী হাসান এবং ইমাম হাসান—এ তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাবোর্ডে পাঠানোর কথা ছিল। অথচ নিয়ম মেনে প্রস্তাবিত উক্ত ৩ প্রার্থীকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে মো. আশরাফুজ্জামান সাগর নামের এক বহিরাগত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গত ২৭ আগস্ট যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক আদেশে সভাপতি হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কমিটি গঠনের বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক কার্তিক কুমার সাহার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের রেজুলেশন অনুযায়ী যে ৩ জন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের কাউকেই সভাপতি করা হয়নি। বোর্ডের প্রেরিত পত্রে আশরাফুজ্জামান কীভাবে সভাপতি মনোনীত হলেন, সে রহস্য আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে ঝিকরগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত এডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও একতিয়ারের বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত এলাকাবাসী অবিলম্বে এই জালিয়াতির পকেট এডহক কমিটি বাতিল করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থানীয়দের মধ্য থেকে যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকে সভাপতি পদে মনোনীত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা ও স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।

