স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দলীয় ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের চার শীর্ষ স্থানীয় নেতার ওপর হামলার মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যার ঠিক প্রাক্কালে উপজেলার দক্ষিণ নড়িয়া এলাকায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের অংশে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ হলেন—উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি নোমান চোকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল সিকদার এবং পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান রাজিব।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল জরুরি আলোচনার কথা বলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদ খান ও ছাত্রদল নেতা নোমান চোকদারকে নির্দিষ্ট ওই স্থানে ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ায় নোমান চোকদার নামাজ পড়তে অন্যত্র চলে যান। এ সময় একা পেয়ে মাসুদ খানের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয় এবং তা অস্বীকার করায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চওড়া হন সালাউদ্দিন ছৈয়ালসহ তাঁর সহযোগীরা। পরে নামাজ শেষে নোমান চোকদার ঘটনাস্থলে ফিরে এলে তাঁকেও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তাঁদের আর্তচিৎকারে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের তাজুল সিকদার ও ছাত্রদলের দেওয়ান রাজিবও প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান অভিযোগ করে জানান, সালাউদ্দিন ছৈয়াল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁদের সেখানে ডেকে নিয়ে নগদ ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং অস্বীকৃতি জানালে তাঁর সঙ্গে থাকা অস্ত্র ও কালো কাপড়ে মোড়ানো বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি মারধর শুরু করেন। এমনকি তাঁর সহচর ইব্রাহিম অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও তিনি দাবি করেন। একই সুরে পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান রাজিব জানান, পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদ পেতে তাঁদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁরা এর সঠিক বিচার দাবি করছেন।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ অভিযোগের ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ছৈয়াল মারধরের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও এর পেছনে মূলত ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও আর্থিক বিরোধ জড়িত বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, পার্টনারশিপে ব্যবসা করার কথা বলে মাসুদ খান ও নোমান চোকদার তাঁর কাছ থেকে দুই ধাপে ৪৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে যৌথভাবে জমি কেনা ও তা বিক্রির পর মুনাফার টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁরা নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং তাঁকে ব্যবসার অংশীদার রাখতে অস্বীকার করেন। শনিবার নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর সাথে থাকা লোকজনের সাথে ভুক্তভোগীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি নিজে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
গোটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উদ্ভূত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে মারামারির খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে সেসময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে আহত ব্যক্তিরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিবিড় তদন্ত করে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি সংগৃহীত।

