পণ্য উধাও, হিসাবও গায়েব!

পণ্য উধাও, হিসাবও গায়েব!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের চৌগাছা উপজেলা সদরের ইছাপুর বটতলা এলাকায় অবস্থিত বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি সিঙ্গারের শোরুমে বার্ষিক অভ্যন্তরীণ অডিট বা আর্থিক নিরীক্ষা কার্যক্রমে ১ কোটি টাকারও বেশি বিশাল অঙ্কের বড় ধরনের আর্থিক গরমিল ও পণ্য লোপাটের চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি ধরা পড়েছে। এই নজিরবিহীন ও বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় শোরুমটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার এমডি আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোম্পানির পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৪জুন) চৌগাছা-হাকিমপুর সড়কের ইছাপুর বটতলা এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গারের শোরুমটিতে খুলনা আঞ্চলিক অডিট অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একটি বিশেষ ও আকস্মিক অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। নামী-দামী এই ব্র্যান্ডের শোরুমে ১ কোটি ১ লাখ টাকার এমন বিশাল জালিয়াতি ও পণ্য আত্মসাতের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো চৌগাছা ও যশোরের বাণিজ্যিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

সিঙ্গারের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষার অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে খুলনা আঞ্চলিক অডিট অফিসের কর্মকর্তারা চৌগাছার ইছাপুর বটতলা শোরুমে এসে উপস্থিত হন। পরে তাঁরা শোরুমের প্রধান ম্যানেজার এমডি আজিজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ক্যাশ বই, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং স্টকের সমস্ত নথিপত্র নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। অডিট কার্যক্রমের একপর্যায়ে খাতা-কলমের হিসাবের সাথে শোরুমের মূল ক্যাশের সর্বমোট ১ কোটি ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার এক বিশাল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ গরমিল কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে। কাগজে-কলমে বিপুল পরিমাণ মালামাল শোরুমে থাকার কথা থাকলেও, অডিট কর্মকর্তারা যখন শোরুমের মূল গোডাউন বা গুদামঘরটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, তখন তারা সেখানে কোনো পণ্যের অস্তিত্ব না পেয়ে সম্পূর্ণ স্তম্ভিত হয়ে যান। গোডাউন ফাঁকা থাকার কারণ এবং ১ কোটি ১ লাখ টাকার বিশাল ঘাটতির বিষয়ে উপস্থিত অডিট কর্মকর্তারা ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ও বৈধ জবাব দিতে পারেননি, বরং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর অডিট কর্মকর্তারা অভিযুক্ত শোরুম ম্যানেজার আজিজুল ইসলামকে সরাসরি চৌগাছা থানায় নিয়ে আসেন এবং কর্তব্যরত পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এই ন্যাক্কারজনক ও কোটি টাকার আর্থিক আত্মসাতের ঘটনায় সিঙ্গারের যশোর জেলা ম্যানেজার শেখ ইমরান হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি নিয়মিত অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক একটি নামী ব্যান্ডের শোরুমে কোটি টাকার আর্থিক গরমিল ও মালামাল গায়েবের ঘটনাটিকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। ইতিমধ্যেই দায়েরকৃত মামলার এজাহারটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত ম্যানেজারের সাথে এই বিপুল পরিমাণ টাকা ও মালামাল পাচারের পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আইনগত প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চলমান রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
আরো পড়ুন

অভয়নগরে চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি বর্ষণ!

গবেষণার গুণগত মান ও নৈতিকতা রক্ষায় যবিপ্রবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক

কোটচাঁদপুর মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম ওয়াদুদের মাতার ইন্তেকাল

ঝিকরগাছায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের শুভ সূচনা : বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে তথ্য সংগ্রহ

দুর্গাপূজায় অপতৎপরতা চালালে কঠোর জবাব-অভয়নগরে প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম

বাগআঁচড়ায় মূল্যতালিকা না থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

পূজা উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সভা

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোরে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সাক্ষাৎকার গ্রহণ

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *