স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুরে চার মাসের ক্ষুদ্র সংসার জীবনের পর মাত্র ১৬ বছর বয়সী সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়া নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে গৃহবধূর আত্মহত্যার দাবি করা হলেও, নিহতের পরিবারের অভিযোগ—পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে মোড় নিতে অপমৃত্যুর নাটক সাজানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহত সুমাইয়া ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী মটবাড়িয়া গ্রামের হারুন বিশ্বাসের মেয়ে। চার মাস পূর্বে মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়ের পর নগদ ৫০ হাজার টাকা ও যাবতীয় আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হলেও সুমাইয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
বিজ্ঞাপন
গত ৩০ জুলাই রাতে সুমাইয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন খবর দেন। তবে নিহতের মা বিলকিছ বেগমের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মেয়েকে ঘরের খাটের ওপর কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। আলামত নষ্ট করা এবং কীভাবে লাশ নিচে নামানো হলো তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তাছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের গোসল করানোর সময় সুমাইয়ার শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক আঘাতের স্থান ও একটি হাড় ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সুমাইয়ার এই করুণ পরিণতির পর মণিরামপুর থানায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হলেও পরবর্তীতে নিহতের মা বাদী হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দিকে চেয়ে আছেন নিহতের শোকাহত স্বজনেরা। ছবি সংগৃহীত।

