ধর্মঘট করায় যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের বেতন কর্তন

ধর্মঘট করায় যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের বেতন কর্তন

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে বেতনের তিনগুণ বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করায় যশোর, মাগুরা, নড়াইল ও ঝিনাইদহের ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাক কর্মচারীর বেতন কর্তন করা হয়েছে। ইতিপূর্বে টানা ১৩ দিন ধর্মঘট পালনের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও খুলনা বিভাগীয় পোস্ট মাস্টার জেনারেল ও ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলের নির্দেশে এই বেতন কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়ন যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ খান। তিনি জানান, যশোর জেলায় মোট ৫৫৩ জনসহ খুলনা বিভাগের চারটি জেলায় প্রায় ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাক কর্মচারী চরম বৈষম্য ও মানবেতর জীবনযাপনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে একজন পোস্ট মাস্টারের বেতন ৪,৪৬০ টাকা, পিয়নের বেতন ৪,৩৫৪ টাকা, রানারের বেতন ৪,১৭৭ টাকা এবং অফিস আয়ার বেতন মাত্র ৪,০৬০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দামের বাজারে এই অল্প উপার্জনে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনযাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এজন্য তারা সম্প্রতি ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। টানা ১৩ দিনের ধর্মঘট শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি ছিল কোনো কর্মচারীর বেতন বা ভাতা কাটা হবে না এবং প্রতি মাসের ১-২ তারিখের মধ্যেই বেতন প্রদান করা হবে। ধর্মঘট শেষে তারা সকল ডকুমেন্ট গ্রাহকসহ ভূমির পরচা বিলি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জরুরি চিঠিপত্র, ভিপি ও মনি অর্ডারসহ সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সত্ত্বেও চলতি মাসের প্রদত্ত বেতন থেকে ১৩ দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়।

এ অবস্থায় কর্তন করা বেতন ফেরতসহ বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মচারীদের পদোন্নতি ও ডাক বিভাগে অভিজ্ঞ কর্মচারীদের নিয়োগসহ দাপ্তরিক কাজের সুবিধার জন্য বাইসাইকেল ও প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহ করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন কর্তনের সমাধান এবং ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে অনশনসহ সারাদেশে কঠোর ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়ন যশোর, মাগুরা, নড়াইল ও ঝিনাইদহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *