মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রতীকী নবীনবরণ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কলেজের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে একটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। এ সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পূর্বঘোষিত নবীনবরণের অনুমতি দিয়েও অনুষ্ঠানের দিন কলেজ বন্ধ করে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য কলেজ প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেন। একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের জোরালো দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ঝিনাইদহ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।
এদিকে উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে সরকারি কেসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তেজনার জেরে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) কলেজ কর্র্তৃপক্ষের একাডেমিক কাউন্সিল বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর মাসরুর উল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে।
কলেজ সূত্র জানায়, গত ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরই ফলশ্রুতিতে কলেজ প্রশাসন এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ছবি সংগৃহীত।
