স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সরকারি বাসভবন, কর্মকর্তা ফ্ল্যাট ও ডর্মেটরিতে বসবাসকারী অন্তত ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে বাসা ও সিট ভাড়া বাবদ সরকারের মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পাওনা বকেয়া পড়েছে। মাসের পর মাস নির্ধারিত সরকারি ভাড়া পরিশোধ না করেই তারা বছরের পর বছর আবাসনে বসবাস করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে চৌগাছা উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসনিক কেন্দ্র চত্বরে চেয়ারম্যানের বাংলোসহ ২টি বাংলো, ৬টি ভবনে ২৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট এবং ১টি ডর্মেটরি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২১টিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার বসবাস করছে এবং ডর্মেটরিতে বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ১৪ জন কর্মচারী থাকেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আবাসনগুলোতে বসবাসকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া ঝুলছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শামসুন নাহারের নামে। সরকারি বাসায় প্রায় তিন বছর ধরে বসবাস করলেও তিনি কোনো ভাড়া জমা দেননি। গত জুন ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে ৩৬ মাসে তাঁর কাছে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। যদিও পিআইও শামসুন নাহার এই পাওনার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর কোনো বকেয়া নেই এবং তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বকেয়ার তালিকায় রয়েছেন—উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান (১৭ মাসের ৫১ হাজার টাকা), পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওবায়দুল ইসলাম (১৪ মাসের ৪২ হাজার টাকা), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক সোহেল রানা (১২ মাসের ৩৬ হাজার টাকা), ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী শাহজালাল (৯ মাসের ২৭ হাজার টাকা), লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষক ও মসজিদ ইমাম শাহজাহান আলী (১২ মাসের ৩৬ হাজার টাকা), প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী শরিফুল ইসলাম (৬ মাসের ১৮ হাজার টাকা) এবং পিআইও অফিসের সহকারী আব্দুর জব্বার (৩ মাসের ৯ হাজার টাকা)।
একইভাবে ডর্মেটরিতে থাকা ১৪ জন কর্মচারীর কাছে সিট ভাড়া বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ৭২ হাজার টাকা। এর বাইরে সরকারি ফ্ল্যাট ব্যবহারকারী বিভিন্ন দপ্তর, যেমন—উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন অফিস (৫১ হাজার টাকা), তথ্য অফিস (৭৫ হাজার টাকা), সেটেলমেন্ট অফিস (৯ হাজার টাকা) এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের (৫১ হাজার টাকা) নামেও মোটা অঙ্কের বাসা ভাড়া বকেয়া রয়েছে।
এদিকে, কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ ও অনুমোদন ছাড়াই উপজেলা চেয়ারম্যানের বাংলোতে এক সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবৈধভাবে কোনো ভাড়া পরিশোধ না করেই দীর্ঘদিন বসবাস করছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলী জানান, “এ সংক্রান্ত লিখিত তথ্য বা চিঠি আমাদের দপ্তরে আসেনি। ফলে বিস্তারিত বকেয়ার বিষয়টি ইউএনও মহোদয় ভালো বলতে পারবেন।” তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।
