স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে নিখোঁজের পর বসতঘর থেকে অটোভ্যান চালক বাশার গাজীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লুন্ঠিত অটোভ্যানটি উদ্ধার করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— নারায়নগঞ্জের তৈলখিলা এলাকার শামীম শেখ (৩৯), কুড়ের পাড় এলাকার মো. রাজন (৩৬) এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার মামুদাদপুর এলাকার মো. কাউসার মোল্লা।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টঙ্গীবাড়ী থানাধীন মামুদাদপুর এলাকার নিজ বসতঘর থেকে অটোভ্যান চালক বাশার গাজীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী-সন্তানরা বাবার বাড়িতে থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরে একা বসবাস করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জান্নাতুন নেছা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ২৩ সেপ্টেম্বর টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৫, তারিখ: ২৩/০৯/২০২৬) দায়ের করেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই মো. আবেদ আলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি চৌকস টিম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম, রাজন ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের চুরি হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আসামিরা মূলত অটোভ্যানটি চুরির উদ্দেশ্যে বাশার গাজীর ঘরে প্রবেশ করে। টের পেয়ে বাশার গাজী জেগে উঠলে চোর চক্রের সদস্য শামীম ও কাউসারকে চিনে ফেলেন। এতে পরিচিতি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং একপর্যায়ে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরবর্তীতে তারা ভিকটিমের কোমর থেকে চাবি নিয়ে অটোভ্যানটি চুরি করে চম্পট দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
