খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হানিট্র্যাপ দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলকারী প্রতারক চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অত্র থানাধীন সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিকের রোড নম্বর ০৩-এর ৩৭৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি ভবনের পঞ্চম তলার ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে একটি প্রতারক চক্র অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ প্রতারক চক্রের সক্রিয় ছয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মোছাঃ রেখা (৪০), পিতা-শেখ জালাল উদ্দিন, স্বামী-মুরাদ ইসলাম, সাং-কালিয়া, ডিমা ডাক্তার বাড়ি, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা- রোড নং-০৩, বাড়ি নং-৩৭৭, সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক, থানা-সোনাডাঙ্গা, খুলনা মহানগর; তামিম হাসান @ রবিন (২২), পিতা-মুরাদুল ইসলাম, সাং-করপাড়া মির্জাপুর বাজার, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা- রোড নং-০৩, বাড়ি নং-৩৭৭, সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক, খুলনা; শেখ আকাশ (২১), পিতা-কামরুজ্জামান শেখ, স্থায়ী ঠিকানা-কালিয়া ডিমা, ডাক্তার বাড়ি, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা-তালতলা, থানা-অভয়নগর, জেলা-যশোর; রাকিবুল হাওলাদার (১৯), পিতা-কবির হাওলাদার, সাং-পিসি কলেজ, নূর মসজিদ, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা- রোড নং-০৩, বাড়ি নং-৩৭৭, সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক, খুলনা; আঞ্জুমান আরা বেগম (৬০), পিতা-মৃত কাদের তালুকদার, স্বামী-মৃত শেখ জালাল উদ্দিন, মাতা-কুলসুম বেগম, স্থায়ী ঠিকানা-কালিয়া ডিমা ডাক্তার বাড়ি, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা-সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক, ৩নং রোড, খুলনা মহানগর এবং শেখ মনির @ টুটুল (৩৮), পিতা-শেখ জালাল উদ্দিন, স্থায়ী ঠিকানা-কালিয়া ডিমা ডাক্তার বাড়ি, থানা-বাগেরহাট সদর, জেলা-বাগেরহাট, বর্তমান ঠিকানা-রোড নং-০৩, বাড়ি নং-৩৭৭, সোনাডাঙ্গা ২য় আবাসিক, খুলনা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শেখ মনির @ টুটুল অসুস্থ থাকায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন লোকজনকে টার্গেট করে সুকৌশলে ফাঁদে ফেলত এবং পরবর্তীতে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছিল। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
