হাফিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় একটি ধানক্ষেতের নালা থেকে স্বামী ও স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আফসার গাজী পার্শ্ববর্তী মাঠে ঘাস কাটতে যান। এ সময় স্থানীয় সিরাজ মোল্লার মৎস্য ঘেরের পাশে অবস্থিত ধানক্ষেতের নালায় একটি নারী ও একটি পুরুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন কেশবপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পাওয়া মাত্রই কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘের মালিক সিরাজ মোল্লা জানান, লাশ উদ্ধারের মাত্র দুই দিন আগেও অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ওই নালায় পানি সেচ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের সংবাদ পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পিবিআই এবং সিআইডি’র বিশেষজ্ঞ টিম রাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতরা হলেন—ঘটনাস্থল থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাগুরখালি গ্রামের মৃত জোবান আলী সর্দারের ছেলে আলেক সর্দার (৪৫) এবং তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
ঘটনার বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ছবি প্রতিবেদক।
