মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামী রাব্বি মণ্ডলকে (৩৫) ধারালো দা দিয়ে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ফারজানা বেগমের (২৭) বিরুদ্ধে। এ নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে রক্তমাখা দাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর (মুড়াপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে স্বামী রাব্বি মণ্ডল বাড়িতে ফিরে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ঘুমন্ত স্বামীর ওপর ধারালো দা নিয়ে চড়াও হন স্ত্রী ফারজানা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে স্বামীকে হত্যা করার পর সকালে ফারজানা নিজে প্রতিবেশীদের কাছে গিয়ে বলেন, “ওকে কুপিয়ে রেখে আসছি, দেখো বেঁচে আছে কিনা।”
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরে গিয়ে শয়নকক্ষে রাব্বির রক্তাপ্লুত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের রক্তঝরা মরদেহ উদ্ধার করে।
পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে রাব্বি মণ্ডল ও ফারজানা বেগমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ৫ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল বলে জানা গেছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে উপজেলার আমতৈল এলাকা থেকে অভিযুক্ত ফারজানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ প্রধান আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের আসল নেপথ্য কারণ ও এর পেছনে অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

