স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক রায়হানের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া ও নেওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তাঁকে সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি এবং সাড় ছয় হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় ডেকে অপমান ও গালিগালাজ করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফাল্গুনী আকুঞ্জী শাম্মী নামের ওই নারী। তিনি অভয়নগর উপজেলার গোয়াখোলা গ্রামের কাইজার উদ্দীন আকুঞ্জীর মেয়ে।
লিখিত অভিযোগে ফাল্গুনী উল্লেখ করেন, গত ২৭ আগস্ট তাঁর স্বামী গাজী খালিদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি অভিযোগ করেন তিনি। ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান সহকারী উপপরিদর্শক রায়হান। ওই দিনই অভয়নগরের প্রফেসরপাড়া মোড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সহকারী উপপরিদর্শক রায়হান সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি নগদ সাড় ছয় হাজার টাকা দেন এবং বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় সালিশের আয়োজন করেন সহকারী উপপরিদর্শক রায়হান। সেখানে ফাল্গুনী ও তাঁর সাক্ষীরা উপস্থিত হলে তাঁদের অপমান ও গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সঠিক বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ফাল্গুনী।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই রায়হান দাবি করেন, গতকাল সন্ধ্যায় তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে তার স্বামীকে থানায় আসার জন্য একাধিক বার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। ফলে তার পারিবারিক সমস্যাটা সমাধান হয়নি। অভিযোগকারীর সাথে আমি কোন খারাপ ব্যবহার বা আচরণ করেছি এমন কোন কথা তিনি বলতে পারবে না। তবুও সে কেন যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এটা আমি বুঝতে পারছি না। তিনি আরো জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোনো টাকা নেননি। অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, তা তিনি মেনে নেবেন। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

