শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার লম্পট অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার লম্পট অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ঢাকার সাভারে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মায়ের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে তাকে প্রশাসনিক হেফাজতে নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম গাজী এইচ এম রবিউল আওয়াল। তিনি সাভারের কামাল গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘হেরার আলো মডেল মাদ্রাসা’র অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তদন্ত ও দায়েরকৃত অভিযোগপত্র সূত্রে প্রকাশ, আনুমানিক দুই মাস পূর্বে উক্ত শিশুশিক্ষার্থীর আরবি পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশানুরূপ না হওয়ায় তাকে নিজের কার্যালয়ে আলাদাভাবে পাঠদানের প্রস্তাব দেন অধ্যক্ষ রবিউল আওয়াল। সন্তানের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার উন্নতির কথা ভেবে পরিবারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে মেয়েটি অধ্যক্ষের খাসকামরায় গিয়ে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করছিল। তবে শিক্ষার এই পবিত্র সুযোগকে অপব্যবহার করে নানা প্রলোভনে শিশুটিকে নিয়মিত অনৈতিক ও আপত্তিকর স্পর্শ করতেন ওই শিক্ষক। একইসাথে বিষয়টি কাউকে জানালে চরম ক্ষতির ভয় দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।

অভিযোগে আরও প্রকাশ পায়, গত সোমবার দুপুরের দিকে নিজের কক্ষে শিশুটিকে একইভাবে শ্লীলতাহানি করেন ওই অধ্যক্ষ। এ সময় শিশুটি আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়লে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে অনবরত কাঁদতে থাকা শিশুর কাছ থেকে মা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেন।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ গাজী এইচ এম রবিউল আওয়াল কুৎসিত কাজের অজুহাত হিসেবে জানান যে, শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে তিনি এমন অন্যায় অপরাধ করে ফেলেছেন।

এদিকে এই ঘটনার নতুন মাত্রা যোগ করে অভিযুক্তের স্ত্রী হাফিজা বেগমের বক্তব্য। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পূর্ব থেকেই অবগত ছিলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকেও সতর্ক করেছিলেন। এমনকি তাঁর স্বামী ওই শিশুটিকে পরবর্তী সময়ে বিয়ে করবেন বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *