স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আদালতের সুনির্দিষ্ট স্থাগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাল নথি এবং ভুয়া ডিসিআর (DCR) তৈরি করে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বাণিজ্যিক জমি লিখে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও জমি দখলের এই দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগে যশোর সদরের সাব-রেজিস্ট্রারসহ আটজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার বাসিন্দা ফজলে রাব্বী। আদালতের বিচারক মাহমুদা বেগম অভিযোগটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর প্রধান আইনি পরামর্শক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগম, ঘোপ জেল রোডের মোশারফ হোসেন (যিনি বাদীর সাবেক কেয়ারটেকার), উপশহরের বাসিন্দা ফজলিয়ারা খাতুন, দলিলের সাক্ষী ফকরুল কবির বুলবুল, মহসিন, জামাল হোসেন, শনাক্তকারী ওমর ফারুক সাগর এবং স্থানীয় দলিল লেখক কাজী রুহুল কুদ্দুস।
আরজিতে প্রকাশ, শহরের ঘোপ জেল রোডের দাগ নম্বর আরএস ১৭৭০-এর অন্তর্ভুক্ত ৬ শতক মূল্যবান জমি মূল মালিক ফজলে রাব্বীর নামে বৈধভাবে নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করা ছিল। কিন্তু তাঁরই বাড়ির সাবেক কেয়ারটেকার মোশারফ হোসেন অনৈতিকভাবে ২০২০ সালে একটি ভূয়া কবলা দলিল (নং ১৪২৭৪) তৈরি করে তা দখলের পাঁয়তারা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী ফজলে রাব্বী আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করলে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নিম্ন ও আপিল আদালত উভয়ই উক্ত জমিতে যেকোনো ধরণের হস্তান্তর, নির্মাণ বা পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেন। এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি) দপ্তর থেকেও নামজারি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
আইনি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট একটি কাল্পনিক ও অস্তিত্বহীন ডিসিআর নথি ব্যবহার করে ১০৫৬৩/২০২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন করিয়ে নেন। ওই দলিলে সম্পত্তিটির ক্রয়মূল্য ৩ কোটি টাকা দেখানো হলেও রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাদী অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন যে, দলিলে ব্যবহৃত সরকারি ডিসিআরের কোনো অস্তিত্বই রেকর্ডপত্রে নেই।
জাল দলিল প্রস্তুতকরণ, ভুয়া সরকারি নথি তৈরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদ গ্রাসের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী আদালতে দুর্নীতি দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। ছবি সংগৃহীত।

