স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে তীব্র সিএনজি (সিএনজি) সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চরম ঘাটতি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অ্যাম্বুলেন্স, রেন্ট-এ-কারসহ বিভিন্ন হালকা ও ভারী যানবাহনের চালকেরা। জেলার অধিকাংশ পাম্পের প্রধান ফটকে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি।
চালকদের অভিযোগ, অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত রাখা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক চালক যানবাহন পাম্প প্রাঙ্গণে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ বা তারচেয়েও বেশি দামে অকটেন কিংবা পেট্রোল কিনে গাড়ি সচল রাখছেন। এতে পরিচালন ও পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বাড়লেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চলমান সিএনজি সংকটে সবচেয়ে গুরুতর ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। জরুরি অবস্থায় মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যশোর থেকে ঢাকা কিংবা দেশের দূরদূরান্তের হাসপাতালে যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এক অ্যাম্বুলেন্স চালক আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা জরুরি রোগী নিয়ে পথে বের হই। মাঝপথে গ্যাস শেষ হলে কোথায় মিলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে তো আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এই সংকটে কোনো রোগীর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হলে বা প্রাণহানি ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে?”
একই সাথে আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে রেন্ট-এ-কার চালকদের। বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা চালকেরা নিয়মিত ট্রিপ না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কাজের সময় পাম্পের দীর্ঘ লাইনে পার হয়ে যাওয়ায় গাড়ির কিস্তি পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান এক চালক।
সরেজমিনে যশোরের একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ও খালি হাতে ফিরে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো চালক উপায় না পেয়ে পাম্পের ভেতরেই গাড়ি পার্ক করে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চালকদের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের বিষয়ে পাম্প মালিকদের দাবি, ইচ্ছা করে গ্যাস আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। মূলত সরবরাহকারী মূল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে পর্যাপ্ত চাপ ও বরাদ্দ না পাওয়ার কারণেই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।
এক ফিলিং স্টেশন মালিক জানান, কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই পাম্প খালি হয়ে যাচ্ছে। তাই সংকট নিরসনে মূল সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এমতাবস্থায় যশোরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোন পাম্পে কতটুকু গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, তা প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চালকেরা। একই সাথে জনভোগান্তি এড়াতে দ্রুত সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার জরুরি আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে। ছবি সংগৃহীত।

