স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের চিহ্নিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে মামলা থেকে বাঁচানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত সোয়া ১টার দিকে গুয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামকে আটক করে নাশকতা মামলায় কারাগারে পাঠায় চৌগাছা থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও নির্দোষ বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর নালিশ জানিয়ে খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন রবিউলের ছেলে আলামিন।
উক্ত অভিযোগে যশোর চৌগাছা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে রবিউলকে বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী দাবি করেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম।
তবে স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এক চাঞ্চল্যকর ও ভিন্নচিত্র। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবের স্বাক্ষরে গঠিত ১০ নম্বর নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৪৬ নম্বর সদস্য ছিলেন এই রবিউল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার পর সম্প্রতি ক্ষমতার পটপরিবর্তনে নিজের অপরাধ ঢাকতে ভোল পাল্টে তিনি ‘হাইব্রিড বিএনপি’ সাজেন।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর দাবি, রবিউল যে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা পদত্যাগপত্র নেই। অথচ ক্ষমতার দাপটে অপকর্ম অব্যাহত রাখতে বিএনপির কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি রাতারাতি ‘বিএনপি কর্মী’ সেজে যান। কোনো যাচাই-বাছাই না করে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা রবিউলকে নিজেদের দলীয় কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করায় পুরো চৌগাছাজুড়ে দলটির ভূমিকা তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এদিকে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ শুরু থেকেই ঘুষের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, রবিউল একজন তালিকাভুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই তাকে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, চৌগাছায় অপরাধীদের বিএনপি বানিয়ে বাঁচানোর এই প্রবণতা এবারই প্রথম নয়। সম্প্রতি যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে আটক চৌগাছার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হীরাকেও একইভাবে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আশীর্বাদে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজানোর চেষ্টা করা হয়, যা নিয়ে হীরার স্ত্রী যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত করেছিলেন।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত পদধারীদের এভাবে দলীয় ছত্রছায়ায় নেওয়ার অপচেষ্টায় চৌগাছা উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের নৈতিক অবস্থান ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সাধারণ জনগণের কাছে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ছবি সংগৃহীত।
