স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মণিরামপুরে ঐতিহাসিক হাজিরহাট সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী মারামারির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও মন্দির সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট মণিরামপুর উপজেলা পূজা ফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে হাজিরহাট সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটিতে বিকাশ চন্দ্র রায়কে সভাপতি মনোনীত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় একটি গোষ্ঠী অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। এরই জের ধরে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনন্দ হালদারের নেতৃত্বে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মন্দিরের সামনে উপস্থিত হয়ে গঠিত কমিটি অবৈধ ও বাতিল দাবি করে মন্দিরের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে তালা মারার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মন্দিরের আওতাধীন ৬টি গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম রাজনৈতিক-সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্বেগজনক এই সংকট নিরসনে আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় হাজিরহাট বাজার সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে এক জরুরি সাধারণ সভার আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত সভায় মণিরামপুর থানা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পূজা ফ্রন্টের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট ছয়টি গ্রামের বিপুল সংখ্যক সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ওই দিন সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের বড় ধরনের সমাগম ঘটতে পারে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমাট বাঁধা বিরোধ ও মন্দিরে তালা দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐদিনের প্রকাশ্য সভায় দুই পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যেতে পারে। তুচ্ছ উসকানিতে সেখানে ব্যাপক সহিংসতার রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মণিরামপুর থানা প্রশাসন ও স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনো অবক্ষয় না ঘটে এবং আগামী শারদীয় দুর্গাপূজার আগে সার্বজনীন পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে ওই দিন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।

