স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে নিজ বাড়ির সামনে থেকে এক মাছের পোনা ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অপহৃত ব্যবসায়ীর রক্তমাখা প্যান্ট স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করায় পরিবারজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীকে দ্রুত উদ্ধার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তাঁর স্ত্রী শতরুপা বড়াল যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের বসতি যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোডের পাওয়ার হাউস এলাকায়। অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ব্যবসায়ী বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ‘আরআরএফ চাঁচড়া শাখা’র কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী পিয়াল নামে এক ব্যক্তি আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় তাঁরা একটি ভিডিও রেকর্ড করে স্ত্রীর কাছে দাবি করেন যে তাঁর স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় হস্তান্তর করা হলো।
বিজ্ঞাপন
এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পিয়ালসহ ৪/৫ জনের একটি সশস্ত্র দল শতরুপা বড়ালের বাড়ির সামনে এসে তাঁর স্বামীকে ডেকে বের করে। তিনি বাইরে আসামাত্র অভিযুক্তরা তাঁকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে চম্পট দেয়। এরপর থেকে তাঁর সাথে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঘটনায় নতুন ও লোমহর্ষক মোড় নেয় পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে। এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একটি ব্যাগে করে ওই ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত রক্তমাখা প্যান্ট এনে স্ত্রী শতরুপার হাতে তুলে দিয়ে কোনো কথা না বলেই দ্রুত সটে পড়ে। এতে পরিবারটির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
একই দিন ঘটনার দ্বিতীয় অভিযুক্ত হৃদয় নামে এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায় এবং পুলিশের সাহায্য না নিতে চরম হুমকি দেয়। পরবর্তীতে দুপুর ২টার পর থেকে হৃদয়ের মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে হুমকি প্রদানসহ মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
বর্তমানে অপহৃত ব্যবসায়ী জীবিত আছেন নাকি নিহত—তা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছে পরিবারটি। অপহৃত স্বামীকে জীবিত উদ্ধারের আকুল আকুতি জানিয়ে স্ত্রী শতরুপা বড়াল পিয়াল, হৃদয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে ১৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। ছবি সংগৃহীত।
