বাবার সনদের ৪ বছর আগেই সন্তান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি কর্মকর্তা!

বাবার সনদের ৪ বছর আগেই সন্তান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি কর্মকর্তা!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের সাবেক সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিইও) শেখ আব্দুল গনির বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি গ্রহণে নজিরবিহীন অনিয়ম ও জালিয়াতির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০০০ সালে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও তাঁর বাবা শেখ এমান আলী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রথম সাময়িক সনদ পান ২০০৪ সালে এবং পরবর্তীতে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শেখ আব্দুল গনি ১৯৯৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) পদে তৎকালীন চাকরির জন্য আবেদন করেন। ১৯৯৯ সালে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০০ সালের ৪ এপ্রিল জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কোটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।

অথচ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল নথি অনুযায়ী, তাঁর বাবা শেখ এমান আলী ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সাময়িক মুক্তিযোদ্ধা সনদ লাভ করেন। এর প্রায় ৯ মাস পর ২০০৫ সালের ২৭ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার চার বছর আগেই সন্তান কোটা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ আব্দুল গনির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে এবং তা নিয়ে একাধিক বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটে’ তাঁকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদেশে দ্রুত যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন তালবাহানা করেন এবং জুনের শেষ দিকে যোগ দিয়ে কৌশলে বদলির আদেশ বাতিলের অপচেষ্টা চালান।

যশোরের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এডিপিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অনৈতিক কাজের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভ্যাস ছিল তাঁর। এছাড়া যশোরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) আশরাফুল ইসলামকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে জড়ানোর নেপথ্যেও শেখ আব্দুল গনির ষড়যন্ত্র ছিল বলে স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে।

এসব গুরুতর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শেখ আব্দুল গনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে বেনাপোল-শার্শা সীমান্তজুড়ে পুলিশি তৎপরতা জোরদার

অবুঝ ২ শিশুকে রাস্তায় ফেলে সটকে পড়লেন মা : পাশে দাঁড়াল জেলা পুলিশ

২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৩ জন ডেঙ্গু ও ৪ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি

হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে যশোরে বিশেষ সংলাপ

চৌগাছার মাদক মামলায় আশিকুরের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

যশোরে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

চৌগাছায় গোয়ালঘরে আগুন : জীবন্ত পুড়ে মারা গেল গরু, ৭০ কবুতর দগ্ধ

যশোরে সিটি কলেজের পাশে ছুরিকাঘাতে আহত ছাত্রদল নেতা ফয়সাল হাসান তদ্রব

অভয়নগরে চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি বর্ষণ!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *