বন্ধুর ব্যবসার কারখানার মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ী রনির হাত-পা বাঁধা লাশ!

বন্ধুর ব্যবসার কারখানার মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ী রনির হাত-পা বাঁধা লাশ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানীর লালবাগে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসীম রনি (৪৩) নামের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর হাত-পা বেঁধে মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর সাড় ৫টার দিকে লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার কারখানার পাশে গর্তের ভেতর থেকে ৮ বস্তা মাটিতে ঢাকা অবস্থায় নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে লালবাগ থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রনির বন্ধু ও ব্যবসায়ী মো. মাসুম চৌধুরীকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ওয়াসীম রনি ব্যবসায়ী ছিলেন, আর অভিযুক্ত মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসার সাথে যুক্ত। যে ভবনের পাশে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটির নিচতলাতেই মাসুমের ইমিটেশন সামগ্রীর পাইকারি কারখানা রয়েছে।

পুলিশ ও নিহত রনির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে মাসুম চৌধুরী বন্ধু রনির কাছ থেকে সুদে ৩ লাখ টাকা ধার নেন, যার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে লাভ দেওয়ার কথা ছিল। তবে মূল টাকা ফেরত প্রদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে পাওনা টাকা আদায় ও চেকের বিষয়ে কথা বলতে মাসুমের কারখানায় যান রনি। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় মাসুম রনির মাথায় অতর্কিত ঘুষি মারলে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে রনিকে মৃত ভেবে কিংবা আলামত গুমের উদ্দেশ্যে মাসুম বাজার থেকে আনুমানিক আট বস্তা বালু-মাটি কিনে আনেন। এরপর ভবনের নিচতলার সংলগ্ন বারান্দার পাশের জমি গর্ত করে রনির হাত-পা বেঁধে ভেতরে ঢুকিয়ে ওপর থেকে মাটি দিয়ে লাশ চাপা দিয়ে স্বাভাবিক আচার-আচরণ করতে থাকেন।

এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই রনির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে মাসুমের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী রনির আগমন ও চলে যাওয়ার তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষমেশ কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার লালবাগ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি ও অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্তে নামে লালবাগ থানা পুলিশ। গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার টানা খনন ও তল্লাশি শেষে শুক্রবার ভোরে মাটির নিচে চাপা পড়া হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রনির পচা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গত ৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পর নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নিচতলার কারখানা সংলগ্ন মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয় এবং মূল অভিযুক্ত মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, আঘাতের ধরন ও এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো সহযোগী ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে মাসুমকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *