বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশ। পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে বলে গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
এ জোড়া সফল অভিযানে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করা ছাড়াও নিহত এক ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
প্রেস ব্রিফিং ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট ২০২৬ দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো এক সময়ে চান্দেরকোলা গ্রামে নিজ বাসগৃহে একই পরিবারের তিনজনকে ধারালো অস্ত্র ও শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সংবাদ পেয়ে গত ৪ আগস্ট সকাল ১১:৫০ ঘটিকায় কচুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে এবং ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২, তারিখ-০৫/৮/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিম মাঠে নামে। ডিবির কৌশলগত অভিযানে গত ১৩ আগস্ট প্রধান আসামী জাহিদুল ইসলামকে (পিতা-মৃত মজিদ হাওলাদার) গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার গভীর তদন্ত চালিয়ে গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৮:৩০ ঘটিকায় নিজ বাড়ি থেকে অপর আসামী আসাদুল শেখকে (পিতা-সুলতান শেখ) গ্রেফতার করে পুলিশ। আসাদুলের স্বীকারোক্তি ও দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বসতঘরের শয়ন কক্ষের খাটের বালিশের নিচ থেকে নিহত আহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন (চার্জারসহ) উদ্ধার ও আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আসাদুলকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১১:০০ ঘটিকায় চান্দেরকোলা গ্রামস্থ নিজ বসতবাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত অপর আসামী মোঃ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে (পিতা-বারিক হাওলাদার) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সাথে আসামী জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের গোপন সম্পর্ক ছিল। এই পরকীয়ার বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হয়ে গেলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সাথে জাহিদুলের তীব্র ঝগড়াঝাটি ও মনোমালিন্য হয়। একইসাথে বিষয়টি নিয়ে জাহিদুল ইসলামের নিজ স্ত্রীর সাথেও গৃহবিবাদ চরম আকার ধারণ করে।
এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও সামাজিক অপমান থেকে প্রতিশোধ নিতে আসামী জাহিদুল ইসলাম পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা সাজায়। পরবর্তীতে জাহিদুলের দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনায় আসাদুল ও আরিফসহ অন্য আসামীদের সরাসরি সহযোগিতায় ওই তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “চাঞ্চল্যকর এই তিন খুনের ঘটনার পেছনে জড়িত মূল আসামীদের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সনাক্ত করে আলামতসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আনুসঙ্গিক বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


