রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরে পথচারী ও সাধারণ যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও প্রাণনাশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রধান সড়কগুলোতে বিশালাকার গর্ত, উপচে পড়া নোংরা পানি নিষ্কাশনের নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, চারদিকে জমে থাকা আবর্জনা, মশার উপদ্রব, বেওয়ারিশ কুকুরের দাপট, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল মহড়া আর কানফাটা শব্দদূষণ—সব মিলিয়ে নাগরিক দুর্ভোগ যেন এখানে নিত্যদিনের স্থায়ী সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। তবে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়কের বেহাল দশা পুরো শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে। কোথাও সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও হাঁটু সমান কাদা-পানি জমে রয়েছে। ফলে সামান্য অসতর্কতায় প্রতিদিন মোটরসাইকেল ও রিকশা উল্টে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা না করায় নগরবাসীর ক্ষোভ দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে।
এর পাশাপাশি যোগ হয়েছে গৃহস্থালি নকশাবহির্ভূত দুর্বল অবকাঠামো। সড়কের পাশের বাসাবাড়ির ছাদের পানি সরাসরি রাস্তায় এসে পড়ায় পথচারীদের হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট স্থাপন ও অপ্রশস্ত সড়কে যানবাহন চলাচলের বেপরোয়া চাপের কারণে শিশুদের নিয়ে নিরাপদে পথচলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ধসে পড়ায় নোংরা পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। জমাট বাঁধা এ পানি মশার বংশবিস্তারের উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে দিন-রাত মশার তীব্র কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারকরণ, আবর্জনা অপসারণ ও মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যকর কর্মসূচির জন্য বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সুফল পাচ্ছে না পৌরবাসী।
এদিকে শহরের আনাচে-কানাচে ও প্রধান সড়কে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ শহরবাসীর আতঙ্কের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারীরা কামড় খাওয়ার ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকেন। মানবিক ও আইনি উপায়ে এই কুকুর ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে পৌর কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাইছেন অভিভাবকেরা।
দুর্ভোগের পাল্লা আরও ভারী করছে যত্রতত্র মাইক বাজিয়ে উচ্চ শব্দে প্রচার-প্রচারণা এবং কিশোর-তরুণদের হেলমেটহীন বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালনা। অতিরিক্ত শব্দদূষণে বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং দ্রুতগতির বাইকের কারণে প্রতিনিয়ত পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও ট্রাফিক আইন জোরদার করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
একই সাথে বিভিন্ন সড়কের লাইটপোস্টে বাতি না থাকায় রাতের বেলা আঁধারে ডুবে থাকে শহর, যা পথচারীদের ছিনতাই ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার দায়িত্ব কেবল কর আদায় ও বড় বড় প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সচল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মৌলিক নিরাপত্তা দেওয়া তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। প্রথম শ্রেণির তকমা কি শুধুই কাগজে-কলমে থাকবে, নাকি সেবার মানেও প্রকাশ পাবে—কোটচাঁদপুরবাসী এখন আশ্বাস নয়, দ্রুত দৃশ্যমান ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চান। ছবি প্রতিবেদক।

