স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনে তুচ্ছ আর্থিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার জেরে মো. ইসমাইল (৬) নামের এক শিশু নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দু’দিন আগে শিশুর বাবাকে এক যুবকের করা হুমকি—“তোকে আমি এমন করব সারাজীবন কাঁদবি”—বাস্তবে পরিণত হওয়া নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম পাড়া সংলগ্ন খাল থেকে পুলিশ ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশু ইসমাইল ওই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত মো. রোকন নামের এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আটক রোকন একই এলাকার মো. নান্নুর ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে বাসা থেকে বের হয়ে পাশের হাওলাদার মার্কেট এলাকায় যায় শিশু ইসমাইল। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা টানা দুই দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালিয়েও তার কোনো খোঁজ পাননি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা খালের পানিতে ভাসমান একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে বস্তার বাঁধন খুলে ইসমাইলের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়।
নিহত শিশুর চাচা মো. সৈকত ইসলাম বাবু অভিযোগ করেন, “ইসমাইলের বাবার সাথে প্রতিবেশী রোকনের একটি মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে কদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে রোকন আকবর ভাইকে চরম হুমকির সুরে বলেছিল—‘তোকে আমি এমন করব সারাজীবন কাঁদবি’। এর ঠিক একদিন পর থেকেই বাচ্চাটা নিখোঁজ হয়। আমরা নিশ্চিত, রোকনই প্রতিশোধ নিতে অবোধ নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করে বস্তায় ভরে খালে ফেলে দিয়েছে।”
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশুটির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের করা হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে রোকন নামে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ছবি সংগৃহীত।
