রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
‘বাল্যবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বৈষম্য নিরসন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সর্বস্তরের সমাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং সামাজিক সংগঠন ‘ঊষা সমাজকল্যাণ সংস্থা’-র সহযোগিতায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সুসজ্জিত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও বিজয়ী কন্যাশিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম হুসাইন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সীলা বেগম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক মো. লিয়াকত হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, উপজেলা জামায়াতের প্রতিনিধি মো. আজিজুর রহমান, পৌর জামায়াতের আমির মো. আব্দুল কাইয়ুম এবং জামায়াতের সাবেক থানা সেক্রেটারি ও সিনিয়র প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় শারীরিক-মানসিক বেড়ে ওঠা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিশপ্ত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। কন্যাশিশুর প্রতি যেকোনো বৈষম্য দূর করে তাদের সুপ্ত সম্ভাবনা ও অধিকার বিকাশে সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আকুল আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কন্যাশিশুদের উৎসাহিত করতে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়। ছবি সংগৃহীত।

