ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আইনজীবীকে হুমকি ও চাঁদা দাবি

ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আইনজীবীকে হুমকি ও চাঁদা দাবি

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি এবং চরম হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন আয়কর আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিধানসহ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আজ রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন জুয়েল আক্তার মুন্সী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন যাবত ইছালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। দিন দিন তাঁর গণজোয়ার ও ব্যাপক জনসমর্থন বৃদ্ধিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানামুখী চক্রান্ত শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জুয়েল আক্তার মুন্সী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাত্তার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল বিশ্বাস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না বিশ্বাসসহ বিএনপি ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী স্থানীয় সাইফুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে মনোহরপুর বাজারে অবস্থিত তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা আইনজীবী জুয়েলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জোরপূর্বক চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, সাইফুজ্জামানের সাথে তাঁর স্ত্রীর বৈবাহিক বিরোধ ও পরবর্তীতে তালাক সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় চার লাখ টাকা আত্মসাতের ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ তুলে ওই টাকা দাবি করা হয়। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবী জুয়েল বলেন, সাইফুজ্জামানের সাথে তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে তিনি পেশাগত জায়গা থেকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের সাথে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় গেলেও সেখানে তাঁর স্ত্রীর সাথে কোনো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। পরবর্তীতে গত ২৭ জুলাই দুই পরিবারের পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তালাক ও দেনমোহরের চার লাখ টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে মেটানো হয়। সম্পূর্ণ পারিবারিক এই লেনদেনের সাথে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় ইতিপূর্বে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলেছে, যার ফলে পুরো পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে থলের বিড়াল বের করা এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সীর পাশাপাশি তাঁর সহধর্মিণী জিনিয়া জুয়েল, ভাই অভি মুন্সি এবং নিকট আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে যশোরে বিশেষ সংলাপ

চৌগাছার মাদক মামলায় আশিকুরের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

যশোরে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

চৌগাছায় গোয়ালঘরে আগুন : জীবন্ত পুড়ে মারা গেল গরু, ৭০ কবুতর দগ্ধ

যশোরে সিটি কলেজের পাশে ছুরিকাঘাতে আহত ছাত্রদল নেতা ফয়সাল হাসান তদ্রব

অভয়নগরে চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি বর্ষণ!

গবেষণার গুণগত মান ও নৈতিকতা রক্ষায় যবিপ্রবিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক

কোটচাঁদপুর মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি বিএম ওয়াদুদের মাতার ইন্তেকাল

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *