মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় প্রগতিশীল, সাম্যবাদী ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কালজয়ী বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ অতি ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। কবিকে স্মরণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মারক আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি এবং উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে শৈলকুপা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, পথ শিল্পাঙ্গন এবং খবরের কাগজ বন্ধুজনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রগতিশীল অনুষ্ঠানের শুভ আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শৈলকুপা শাখার সভাপতি আলমগীর অরণ্যের সভাপতিত্বে মূল স্মারক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মশতবর্ষ উদযাপন পর্ষদ, বাংলাদেশের সদস্যসচিব সুকান্ত দাস।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে সাহিত্যিক ও প্রাঞ্জল বক্তব্য রাখেন লেখক ও সংগঠক স্বপন বাগচী, বিশিষ্ট গবেষক ও প্রকাশক সুমন সিকদার, বিশিষ্ট কবি উপায়ন আনাম, সাংবাদিক সুজন বিপ্লব, কিশোর বিশ্বাস কাজল এবং প্রখ্যাত কলামিস্ট আবু আরিফ রেজাসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও গুণী ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভার বক্তারা বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর সাহিত্যকর্মে শোষিত, বঞ্ছিত ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার তীব্র আকুলতা চির ভাস্বর হয়ে রয়েছে। তাঁর চেতনাজাত গণমুখী ও বিপ্লবী আদর্শ ধারণ করে একটি সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সমাজ সচেতন প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের তরুণ ও বিকাশমান প্রজন্মের মানসিক বিকাশে সুকান্ত ভট্টাচার্যের মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ ও মহৎ মানবিক দর্শন পৌঁছানো সময়ের দাবি। যেকোনো অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে তরুণদের সোচ্চার হতে কবির কবিতা আজও পরম প্রেরণা জোগায়।
স্মরণানুষ্ঠানের শেষভাগে স্থান পায় মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে আবৃত্তিশিল্পীরা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর ও দ্রোহের কবিতা পাঠ করেন এবং উদীচীর কণ্ঠশিল্পীরা গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কালজয়ী এ কবিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। ছবি সংগৃহীত।

