স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে যশোরের শেখহাটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক অসাধারণ ও প্রাণবন্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। অদম্য ফুটবল প্রেম, সাবেক শিক্ষার্থীদের রি-ইউনিয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শেখহাটি দক্ষিণপাড়া মাঠে ৯১ ও ৯২ ব্যাচের মধ্যে এই মনোমুগ্ধকর ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রবীণ বয়সেও খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য এবং মাঠের অনবদ্য লড়াই শেখহাটি এলাকায় এক অভাবনীয় আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল চারটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ইসহাক সড়কের পার্শ্ববর্তী শেখহাটি দক্ষিণপাড়া মাঠে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মনোজ্ঞ ও আনন্দময় এই ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন যশোর থানা বিএনপির অন্যতম সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আবাসন খাতের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘শতরূপা আবাসন’-এর স্বত্বাধিকারী এস, এম আসাদুল আলম ঝন্টু। সমাজকল্যাণমূলক ও বিনোদনমুখী এই ক্রীড়া উৎসবটির সার্বিক স্পন্সরশিপের দায়িত্বে ছিল শতরূপা আবাসন।
বিজ্ঞাপন
মাঠে বাঁশি বাজার সাথে সাথেই দুটি ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা ফুটবলের চমৎকার কারুকাজ ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেন। প্রথমার্ধ থেকেই ক্ষিপ্র আক্রমণ ও চমৎকার দলীয় সুরক্ষায় লাল দল প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করে। খেলার নির্ধারিত সময় শেষে লাল দল ৩-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে সবুজ দলকে হারিয়ে বিজয়ের হাসিমুখ নিয়ে মাঠ ছাড়ে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত চলা এই টানটান উত্তেজনার খেলাটি উপভোগ করতে মাঠের চারপাশে বিপুলসংখ্যক ফুটবল অনুরাগী দর্শক উপস্থিত হন এবং করতালিতে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জয়ী লাল দল ও বিজিত সবুজ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও আকর্ষনীয় পুরষ্কার তুলে দেন শতরূপা আবাসনের স্বত্বাধিকারী এস, এম আসাদুল আলম ঝন্টু।
কেবল মাঠের খেলাই নয়, আয়োজক ও স্পন্সরদের সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অত্যন্ত সুকোমল ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে সন্ধ্যার সামাজিক কর্মসূচিতে। ম্যাচ শেষে স্থানীয় ‘নাযারাতুল মা’আরিফ তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা’র এতিম শিশুদের সম্মান জানিয়ে এক আনন্দময় প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। শিশুদের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে পুরো আয়োজনে এক সুগভীর মানবিক মাত্রা যুক্ত হয়, যা স্থানীয় সচেতন সুশীল সমাজের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এমন সুন্দর আয়োজন প্রসঙ্গে খেলা দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রবীণদের মাঠে টেনে আনা এবং শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এমন মহৎ উদ্যোগ সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। ছবি সংগৃহীত।
