স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সিরাজসিঙ্গা মোসলেম মোড় এলাকায় গভীর রাতে এক প্রবাসীর বসতবাড়িতে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী। এ সময় মিন্টু গাজী নামের এক ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃত মিন্টু গাজী যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের আলাউদ্দিন গাজীর ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল সিরাজসিঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমানের বাড়িতে গেট ভেঙে ঢোকার প্রস্তুতি নেয়। তবে তারও আগে সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির রান্নাঘর রক্ষিত লবণ, হলুদ ও আগে থেকে রান্না করা মাংসের তরকারিতে মারাত্মক ক্ষতিকর চেতনানাশক স্প্রে মিশিয়ে দিয়েছিল, যাতে পরিবারের সবাই খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। কিন্তু রাতে খাবার খাওয়ার পর পরই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শারীরিক অস্বস্তি ও সন্দেহ দেখা দিলে তারা তড়িঘড়ি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং পুরো পরিবার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকেন।
পরবর্তীতে রাত পৌনে তিনটার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা যখন মূল গেটের তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়, তখন বিষয়টি টের পেয়ে যান গৃহকর্তার ছেলে জাকারিয়া হোসেন শান্ত। ওই সময় ডাকাত সদস্যরা শান্তর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করার চেষ্টা করলে তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। শান্ত হাতের কাছে থাকা একটি ভারী লাঠি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করলে ডাকাত মিন্টু গাজী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শান্তর চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ডাকাত দলের বাকি ৪-৫ জন সদস্য কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীনেশ দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সিরাজসিঙ্গায় পৌঁছান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আটক ডাকাত মিন্টু গাজীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অন্য ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

