স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি (আদর্শপাড়া) এলাকায় কোতোয়ালি মডেল থানার এক সাব-ইনস্পেক্টরের (এসআই) তল্লাশি অভিযান ও ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গৃহবধূর পক্ষ থেকে সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া বেআইনি প্রবেশ ও হেনস্তার অভিযোগ তোলা হলেও, পুলিশের দাবি—মাদক মামলার আসামির বাড়ি তল্লাশিতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতেই আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শেখহাটি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রাজু আহমেদের ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাজু আহমেদের স্ত্রী আফরিন খান মৌ (৩০) জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগসূত্রে বলা হয়, তাঁর স্বামী ব্যবসায়িক কাজে বাইরে থাকা অবস্থায় কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আল আমিন সিভিল পোশাকে পিস্তল ও ওয়াকিটকি নিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিসহ হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করেন। সাথে থাকা ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে তল্লাশি শুরু করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
আফরিন অভিযোগ করেন, কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট দেখানো হয়নি এবং সাথে কোনো নারী পুলিশ সদস্যও ছিলেন না। একপর্যায়ে তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে (আরেফিন খান, ৯ এবং আয়াশ খান, ২) অবরুদ্ধ করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এতে আপত্তি জানালে তাঁদের সাথে অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাঁরা স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসআইয়ের সাথে আসা ব্যক্তি পুলিশ সদস্য ছিলেন না। আফরিন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যের সাথে ডিজিটাল প্রমাণাদিও (পেনড্রাইভ ও স্থিরচিত্র) যুক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষটি সম্পূর্ণরূপে খণ্ডন করেছেন অভিযুক্ত এসআই আল আমিন। তিনি জানান, অভিযোগকারী নারীর স্বামী মূলত একাধিক মাদক মামলাসহ চার-পাঁচটি ফৌজদারি মামলার তালিকাভুক্ত আসামি। তিনি জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারী শুরু থেকেই অসযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও করা শুরু করেন।
এসআই আল আমিন জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিয়ানিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে পাড়া-প্রতিবেশীদের ডেকে আনা হয়। তাঁদের সকলের উপস্থিতিতেই আইনানুগ তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশও নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রেখেছে, যার উপযুক্ত নথি ও ভিডিও প্রমাণ পুলিশ প্রশাসনের কাছে রক্ষিত আছে। ছবি সংগৃহীত।

