স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
কোমলমতি শিশুদের মাঝে উচ্চ ধর্মীয় মূল্যবোধ, সুসংহত নৈতিকতা, সামাজিক শিষ্টাচার ও আদর্শ জীবন গঠনের মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। কারাগারের জামে মসজিদের সরাসরি পরিচালনায় কোমলমতি শিশুদের বিনামূল্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও সততার শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাত্র ৬ জন শিশু শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এই শিক্ষা উদ্যোগটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরম করুণাময় মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই দ্বীনি শিক্ষাদানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষার্থীর এই সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন আয়োজকরা।
পরিকল্পিত এই শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় প্রতিদিন ফজরের নামাজের পরপরই শিশুদের জন্য নিবিড় আরবি শিক্ষা তথা প্রথাগত মক্তব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর বয়স্কদের বিশুদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন শিক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশু ও বয়স্ক উভয় শ্রেণীকেই কেবল ধর্মীয় জ্ঞানের আলোতেই আলোকিত করা হচ্ছে না; বরং দৈনন্দিন জীবনে সততা, শিষ্টাচার, মানবিক মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্রের অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
শিশুদের পড়াশোনার প্রতি সার্বিক আগ্রহ বাড়াতে, মক্তবে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার লক্ষ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছে। মূল্যায়নে প্রথম তিনজন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে বিশেষ মেধা পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে এবং অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত সান্ত্বনা পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই পুরস্কার ব্যবস্থা কোমলমতি শিশুদের মধ্যে পড়ালেখার প্রতি সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলবে এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রচারে ইতিবাচক অবদান রাখবে। অপরাধ শুধরে একটি সুশৃঙ্খল, আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন সুনাগরিক সমাজ গঠনে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার জামে মসজিদের এই উদ্যোগ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ। ছবি সংগৃহীত।
