মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের চলা দিয়ে বয়োবৃদ্ধ বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা!

মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের চলা দিয়ে বয়োবৃদ্ধ বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি মাদ্রাসার রান্নাঘরে খাবার চাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক হামলায় ফজের আলী সরদার (৭০) নামের এক বয়োবৃদ্ধ প্রধান বাবুর্চি নিহত হয়েছেন। এই আকস্মিক হামলায় বাধা দিতে গিয়ে সোনাবান বিবি (৬৫) নামের অপর এক নারী সহকারীও গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নধীন আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ফজের আলী সরদার জেলার সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। অন্যদিকে, আহত নারী সহকারী সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাইরে চর দৌলতদিয়া এলাকার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ জুমার নামাজের পূর্বে রান্নার কাজ শেষ করে হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করছিলেন প্রবীণ বাবুর্চি ফজের আলী ও তাঁর সহযোগী সোনাবান বিবি। ঠিক সেই মুহূর্তে বহিরাগত পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি রান্নাঘরে প্রবেশ করে আকস্মিকভাবে খাবার দাবি করেন। তবে রান্নার নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে খাবার সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওই ব্যক্তি উগ্র হয়ে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে রান্নাঘরের চুলায় ব্যবহৃত জ্বালানির ভারী কাঠের গুঁড়ি (চলা) তুলে নিয়ে তিনি বাবুর্চি ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ের সংবেদনশীল স্থানে উপর্যুপরি আঘাত হানতে শুরু করেন। আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই বৃদ্ধ বাবুর্চি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সহকর্মীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারী ওই ব্যক্তি মহিলা সহকারী সোনাবান বিবিকেও বেধড়ক মারধর করে জখম করেন। তাঁদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও পার্শ্ববর্তী মসজিদের জুমার নামাজের জন্য জমায়েত হওয়া মুসল্লিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঘাতক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে ফেলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় জনতার রোষানল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। গণপিটুনিতে আহত হওয়ার আশঙ্কায় আটককৃত ব্যক্তিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি সম্পন্ন করেছে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৩ বছর এবং তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হতে পারেন। খাবার না পাওয়ার ক্ষোভে তিনি এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *