স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
শেরপুরের নকলায় সামান্য কিছু টাকার লোভে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আঃ মন্নাছকে (৪৩) নির্মমভাবে হত্যা করার সুদীর্ঘ ঘটনাটির নিখুঁত জট খুলেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নৃশংস এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিন ঘাতককে ইতিমধ্যে জালে তুলেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া তিন মূল আসামিই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধের রোমহর্ষক ও পূর্ণাঙ্গ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নিহত আঃ মন্নাছ শেরপুর জেলার নকলা থানাধীন পাটাকাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় একজন পরিশ্রমী ভ্যানচালক ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যায় জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় ভ্যান চালানোর উদ্দেশে নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে জামালপুরের পাটাকাটা মধ্য সাকিনস্থ বাঘমারি বিলের এক জমিতে কাদা ও কচুরিপানার নিচে অত্যন্ত বিশ্রীভাবে পুঁতে রাখা অবস্থায় তাঁর গলিত ও নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছাঃ আসমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের অভিযুক্ত করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআই জামালপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির সূক্ষ্ম আইনি তদন্ত পরিচালনা করছেন এসআই জাহাঙ্গীর আলম।
বিজ্ঞাপন
পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নকলা থানা এলাকা থেকে প্রথম অভিযুক্ত মোস্তাকিম ওরফে মোস্তাকিনকে (৩০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তার প্রদত্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট নকলা পৌরসভা এলাকা থেকে মোঃ শাহীন (৪০) এবং নিজ বসতবাড়ি থেকে মোঃ স্বপন (৪২)-কে আটক করে পিবিআই। পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জামালপুর জেলার নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, আসামিরা সম্পূর্ণরূপে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালক আঃ মন্নাছের ব্যাটারিচালিত গাড়িটি হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কৌশলে তাঁকে বাঘমারি বিলের নির্জন এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। নির্জন স্থানে পৌঁছানোমাত্র মোস্তাকিম পিছন থেকে ভিকটিম মন্নাছের ঘাড় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং অপর দুই সহযোগী শাহীন ও স্বপন তাঁর হাত দুটি চেপে ধরে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। একপর্যায়ে মন্নাছ মারা গেলে আসামিরা তাঁর নিথর দেহ বিলে কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে তারা চালককে হত্যা করে ছিনতাই করা ভ্যানটির লোহার বডি মাত্র ৮ হাজার টাকা এবং গাড়ির ৪টি ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
এই নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে কিনা তা গভীর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

