স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে ৭৫ লাখ টাকা কাবিননামায় বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তামিম আবু উমামা নামের এক যুবককে ৬টি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং বাড়িতে হামলা চালিয়ে শারীরিক নির্যাতনের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী যুবক নিজেই এমন চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহরতলির পূর্বাবারন্দী মোল্লাপাড়া ঢাকা রোডের বাসিন্দা তামিম আবু উমামা জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহচর আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ফারজানা খাতুন এঁশীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কনের বাবা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আকাশচুম্বী ৭৫ লক্ষ টাকা কাবিন দাবি করেন। একই সঙ্গে মেয়েটির চরিত্রগত নানা গুরুতর অনিয়মের তথ্য ও ছবি জানতে পেরে পারিবারিক সম্মানের স্বার্থে তাঁরা এই বিয়ের প্রস্তাব বাতিল করেন। আর এই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই আনোয়ার হোসেন গং চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করে আরও বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ও অপকর্ম ঢাকতে গত আড়াই বছরে তাঁর বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালী থানাসহ আদালতে মোট ৬টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে ইতোমধ্যে ৪টি মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর রাতে অভিযুক্তরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং অপহরণের নাটক সাজিয়ে উল্টো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। এ ছাড়া গত ৮ অক্টোবর দুপুরে তিনি অফিসে যাওয়ার পথে নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে তাঁর কারটির গতি রোধ করে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যার সমস্ত ফুটেজ ড্যাশ ক্যামেরা ও ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী যুবক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের পরিবারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ছবি সংগৃহীত।
