স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে’ সংঘটিত বীভৎস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটির তিনতলার একটি টাইলস করা বাথরুম থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের শিশুসন্তানকে পরস্পর জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করার রোমহর্ষক তথ্য সামনে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর তিনতলার একটি বাথরুম ও এর আশপাশ থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্যে দেখা যায়, এক পুরুষ এক নারীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছেন এবং ওই নারী তাঁর ছোট শিশুসন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। আগুন ও প্রচণ্ড তাপমাত্রার কারণে মরদেহগুলো এতটাই বিকৃত ও সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল যে সেগুলোর পরিচয় খালি চোখে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি কিছু দেহাবশেষ এত ছোট পিণ্ডের মতো হয়ে গিয়েছিল যে সেগুলো শিশু নাকি বয়স্ক তা বোঝা দায় হয়ে পড়েছিল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির নিচতলার রেস্টুরেন্ট এবং দোতলা ও তিনতলার বেশির ভাগ অংশই কাঠ, বাঁশ এবং কাঠের বোর্ডের ওপর তৈরি করা হয়েছিল। পাকা পিলার ছাড়া অন্য কোনো শক্ত কাঠামো না থাকায় এবং সিঁড়িগুলো কাঠের হওয়ায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর ফলে ওপরের তলায় অবস্থানরত লোকজন নিচে নামার কোনো পথ বা সুযোগ পাননি। ভবনের পেছনে কাচের জানালা ও বাথরুমের তুলনামূলক শক্ত টাইলস করা অংশটুকু অক্ষত থাকায় সেখানেই মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় অন্তত ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও নিখোঁজ থাকা যশোর মণিরামপুরের একটি পরিবারের চার সদস্যের সঙ্গে এই দগ্ধ মরদেহগুলোর মিল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই রিসোর্টটির মালিকপক্ষ পলাতক থাকলেও পুলিশ ইতিমধ্যেই রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে। এছাড়া পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার শিকার এই টুপটুপ রিসোর্টটির কোনো বৈধ অনুমোদন বা কউকের ছাড়পত্র ছিল না। এর আগেও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন না থাকায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছিল। মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের শতাধিক অনুমোদনহীন অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় এখন জেলা প্রশাসন ও কউক যৌথভাবে জিরো টলারেন্স নীতিতে সাঁড়াশি অভিযান ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

