স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের ভুয়া জাল বিস্তার করে মধ্যবয়সী ও বিত্তশালী ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের মূল হোতাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছে ডিবি পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ সদস্য হলেন চক্রের প্রধান জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান, তাঁর ভাগনে প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ, ভাগনের স্ত্রী সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা, অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি। পুলিশি অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক এবং শারীরিক নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান জানান, সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সুকৌশলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মধ্যবয়সী, বয়স্ক এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর ভালোবাসার টানে তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কোনো আবাসিক বাসা বা হোটেল কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। ভুক্তভোগীরা সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই চক্রের পুরুষ সদস্যরা অতর্কিতভাবে সেই কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করতেন এবং মারধরসহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
এই বন্দিদশায় ভুক্তভোগীদের সাথে নারীদের আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও গোপনে ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার বা পরিবারে পাঠিয়ে মানসম্মান ধুলিসাৎ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। ডিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একবার মুক্তিপণ বা টাকা আদায়ের পরও চক্রের লোভ শেষ হতো না; বরং একই ছবি বা ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বারবার ব্লাকমেইল করে টাকা দাবি করা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ও গোয়েন্দা জালে ধরা পড়া এড়াতে চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঘন ঘন তাঁদের আস্তানা ও ভাড়া বাসা পরিবর্তন করতেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁরা সম্পূর্ণ ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় অপরাধীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করে ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল তুরাগ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় তুরাগ থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা ও হানিট্র্যাপের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি কেউ যদি এ ধরনের সাইবার অপরাধ বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিকটস্থ থানাকে কিংবা ডিবি পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
