প্রেম করে বিয়ের ‘অপরাধে’ কিশোরকে বেদম মারধর ও ছুরিকাঘাত

প্রেম করে বিয়ের ‘অপরাধে’ কিশোরকে বেদম মারধর ও ছুরিকাঘাত

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

পছন্দের মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ সাজিদ আহম্মেদ (১৮) নামে এক কিশোরকে প্রকাশ্য রাজপথে ধরে নিয়ে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করার জঘন্য অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যশোর শহরতলীর পুলেরহাট বাজার সংলগ্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত সাজিদ যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া হাফেজপাড়া এলাকার অধিবাসী হাফিজুর রহমানের ছেলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজিদ জানান, প্রায় চার মাস পূর্বে শংকরপুর হাজারিগেট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে সাদিয়া আফরিণের সাথে তাঁর প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের সূত্রে গোপনে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ে মেনে না নিয়ে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আফরিণের পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে কয়েক দফায় জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে সাজিদের পরিবার দাবি করে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী সাজিদ অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে বন্ধু রাব্বিকে সাথে নিয়ে তিনি শহরতলীর পুলেরহাটস্থ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে আসা একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাঁদের ঘেরাও করে ফেলে এবং ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করার বিষয়ে নানা জেরা শুরু করে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি নির্জন গলিতে নিয়ে যায় এবং সঙ্গে থাকা মোটা কাঠের বাটাম দিয়ে বেদম মারধর করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। ওই সময় তাঁকে বাঁচাতে তাঁর বন্ধু রাব্বি এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করে আহত করে চলে যায় হামলাকারীরা।

পরবর্তীতে আশেপাশের স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ মর্মান্তিক ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সাজিদ বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। তবে হামলার পর থেকে সাজিদ ও তাঁর স্বজনরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *