স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঢাকার নামকরা চিকিৎসাকেন্দ্র ‘পপুলার’-এর নাম শুনে যারা ভাবছেন যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের ভবনে ঢুকলেই আন্তর্জাতিক মানের সেবা মিলবে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম ট্র্যাজেডি। সাইনবোর্ডে ‘পপুলার’ শব্দটির আগে-পরে দু-একটি অক্ষর জুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রতারণার জমজমাট দোকান। সরল-সিধা দূর-দূরান্তের রোগীরা এখানে ঢুকে সুচিকিৎসা পান আর না পান, পকেট যে একেবারে গঙ্গার জলের মতো পরিষ্কার করে বের হতে হয়—তা এখন ওপেন সিক্রেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কথিত এই হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ কর্তা শহরের অত্যন্ত স্বনামধন্য ও সম্মানিত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার বীরত্বের ইতিহাস সর্বজনবিদিত হলেও তাঁর প্রতিষ্ঠানে চলছে অসাধু দালালদের রমরমা রাজত্ব! ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে ওয়ান-টু-ফোর জালের মতো ছড়িয়ে থাকা দালালদের কমিশন দিয়ে রোগী ভাগিয়ে আনাই নাকি এ হাসপাতালের আয়ের মূল উৎস।
হাসপাতাল চত্বরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু সরকারি কোনো দপ্তরের নিষেধাজ্ঞাকে পরোয়া করার তোয়াক্কা এদের নেই। নেই কোনো সার্বক্ষণিক নিবন্ধিত চিকিৎসক, নেই কোনো ডিপ্লোমাধারী সেবিকা। কোনো মুমূর্ষু রোগী এলে বাইক হাঁকিয়ে ডেকে আনা হয় ‘অন-কল’ ডাক্তার, আর প্যাথলজিতে অভিজ্ঞ প্যাথলজিস্টের বদলে অনভিজ্ঞদের দিয়ে স্পর্শকাতর সব টেস্ট রিপোর্ট বানিয়ে গলা কাটার মত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশ অমান্য করে বহির্বিভাগ কিংবা জরুরি সেবার আধুনিক ব্যবস্থা ছাড়াই আন্ডারগ্রাউন্ডে চালানো হচ্ছে জটিল কর্মকাণ্ড। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পালানোর রাস্তা নেই, অথচ চিকিৎসার নামে চলছে লাখ লাখ টাকার বেপরোয়া বাণিজ্য। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মন্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলেও তাদের মুঠোফোনটি অলৌকিকভাবে নীরব থাকে। ছবি সংগৃহীত।
