নড়াইল প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন লোভনীয় ও চটকদার পেজ খুলে স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া অনলাইন চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নড়াইল জেলা পুলিশ।
নড়াইল জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এবং গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আড়াইটার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন নড়াইল জেলার কালিয়া থানার পাটেশ্বরী দক্ষিণ পাড়ার ওবাইদুল্লাহর ছেলে মো. মোর্তজা (২৭) এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত অর্থ লেনদেনে সহায়তাকারী বিকাশ এজেন্ট একই উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কামাল মোল্ল্যার ছেলে মো. লিমন মোল্ল্যা (২৭)।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ‘বেবি বাইক সপ বিডি’, ‘বেবি বাইক’, ‘কলম প্যাকেজিং চাকরির ডাক ২.০’, ‘মিশরীয় মুরগী সেল বাজার ২.০’ ও ‘কম্বল.বিডি’সহ একাধিক ফেক ফেসবুক পেজ খুলে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে আসছিল। তাঁরা স্বল্প মূল্যে আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রি এবং ঘরে বসে উপার্জনের নানা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত।সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের ওসি মো. আলাউদ্দীন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেকের তদারকিতে উপপরিদর্শক (এসআই) রাজেশ কুমার দাশ, প্রসেনজিত ঘোষ ও রাকিবুল হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি আধুনিক মোবাইল ফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচার করে মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে টাকা আত্মসাৎ করাই ছিল তাঁদের প্রধান পেশা।
সাইবার অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের সার্বক্ষণিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নড়াইল জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা। ছবি সংগৃহীত।

