স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নেশার টাকার জেরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে তাঁর মাদকাসক্ত স্বামী মনিরুল ইসলাম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের মিথুন নামক এক ব্যক্তির বাড়ির দোতলার ভাড়াটে বাসায় এই চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনা ঘটে।
গুরুতর রক্তক্ষরণ ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় আহত ফাতেমা খাতুনকে রাত ৮টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ওই ভবনের অপর ভাড়াটিয়া লাবনী খাতুন জানান, আহত ফাতেমা খাতুনের স্বামী মনিরুল ইসলাম একজন কট্টর মাদকসেবী। মাদকের নেশা এবং সংসারের খরচ চালানো নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া-বিবাদ ও বাকবিতণ্ডা লেগে থাকত। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকেও সাংসারিক ও নেশার বিষয় নিয়ে ফাতেমা ও মনিরুলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মনিরুল ঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমার গলার সামনের অংশে সরাসরি পোঁচ মেরে হত্যার চেষ্টা চালায়।
ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফাতেমার গলার সিংহভাগ অংশ কেটে রক্ত গলগল করে বের হতে থাকে। তাঁর চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দা ও ওই রোডের এক স্থানীয় হোটেল স্বত্বাধিকারী সোহেল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে রাত ৮টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে আনার পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তড়িঘড়ি করে ওটিতে নিয়ে ফাতেমার গলায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে গভীর পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী মনিরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং অভিযুক্ত মনিরুলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
