স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হোসাইনের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে টানা তিন বছর ধরে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রাথমিকে পাট চুকিয়ে মাধ্যমিকে ভর্তি হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের পিছু হটেনি বলে পরিবার দাবি করেছে।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই প্রধান শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মামা বিএম শফিকুল ইসলাম প্রিন্স।
বিজ্ঞাপন
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ভুক্তভোগী মেয়েটি বর্তমানে সাতবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। এর আগে সাতবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হোসাইনের কুনজরে পড়ে সে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি যখন ২য় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত, তখন থেকেই তাকে নিজের কক্ষে ডেকে কোলে বসিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানি শুরু করেন ওই শিক্ষক। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে এই অন্যায় আচরণ চালানো হয়। ভয়ে ও আতঙ্কে মেয়েটি এতদিন বিষয়টি কাউকে বলতে সাহস পায়নি।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, চলতি বছর প্রাথমিকে পাঠ শেষ করে পাশেই অবস্থিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় মেয়েটি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অজুহাতে ডেকে নিয়ে ফের তার সাথে অসৌজন্যমূলক ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শিশুটি তার মা-বাবাকে বিস্তারিত জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বজনেরা জানান, পুরো নির্যাতনের বিবরণ ভুক্তভোগী শিশুটির নিজ হাতে লেখা চিঠিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে। শিশুটির মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মা, বাবা ও খালা উপস্থিত থেকে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ছবি সংগৃহীত।
