স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঢাকার সাভারে মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ নামে একটি কওমি মাদরাসায় মাত্র ৭ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে বলাৎকারের মর্মান্তিক ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রায় এক সপ্তাহ পর অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগাম পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সাভার উপজেলার পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত ওই মাদরাসায় সাভার মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল এ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল মাদরাসায় যান। তারা প্রতিষ্ঠানের মক্তব শাখার নথিপত্র, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তথ্যাদি যাচাই এবং উপস্থিত অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযানের সময় অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। তবে এ ঝটিকা তল্লাশি প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্যে রাজি হননি।
পরবর্তীতে চত্বরের সার্বিক বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপারেশন ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাথমিক অবস্থায় ভুক্তভোগীর স্বজনরা সরাসরি থানায় না গিয়ে বিজ্ঞ আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের বর্তমান অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেফতারে কৌশলগত তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার এতদিন পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারনামীয় ১০ আসামির কাউকেই গ্রেফতার করতে না পারায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। তিনি সাভার মডেল থানায় সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেন, “আমার শিশু সন্তানকে মাসের পর মাস বিভিন্ন ছলে বলাৎকার করা হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে (OCC) ৪ দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে হয়েছে। মাদরাসার প্রধান পরিচালক (মোহতামিম) জিয়া বিন কাশেম বিচার করার আশ্বাস দিয়ে উল্টো অপরাধীদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। পুলিশ শুরুতেই তৎপর হলে আসামিরা গা ঢাকা দেওয়ার সুযোগ পেত না।”
অভিযোগ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গেলে মাদরাসাটির হিসাবরক্ষক লোকমান দাবি করেন, “অভিযোগের বিষয়টি জানার পরই বড় হুজুর এর সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পূর্ব শত্রুতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেন কাউকেও মিথ্যা মামলায় না জড়ানো হয়, তার সঠিক ও নিরপেক্ষ ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়া দরকার।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সংঘটিত এই নিগ্রহের বিচার চেয়ে গত ২৪ আগস্ট আদালতে আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত সাভার মডেল থানাকে সরাসরি মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। মামলাটিতে মাদরাসার পরিচালকসহ ৫ জন শিক্ষক ও ৫ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।ফাইল ছবি সংগৃহীত।

