স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক প্রবীণ বাসিন্দার বাসভবনে গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁর ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের দরজা ও জানালা লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ার চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সুপরিচিত ‘বুলেট’ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল এই তাণ্ডব চালায় বলে জানা গেছে। এর আগে ওই ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার রানাগাতি গ্রামে স্থানীয় বৃদ্ধ ওহাব আলী শেখের (৮০) বসতবাড়িতে এই ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বুলেট (৩৫) এবং তাঁর সঙ্গী ১০-১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ওহাব আলী শেখের বাড়ির উঠানে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে গিয়ে তারা ওহাব আলীর ছেলে কেরামত শেখকে উচ্চশব্দে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করতে থাকে। ডাকাত সদৃশ সশস্ত্র উপস্থিতিতে চরম প্রাণভয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা না খুললে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা ঘরের দরজা ও জানালা লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছুড়তে থাকে।
বিজ্ঞাপন
হঠাৎ গুলির শব্দে কেরামত শেখসহ ঘরের ভেতরের সদস্যরা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করলে এবং গুলির বিকট আওয়াজে আশপাশের গ্রামীণ প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসতে থাকেন। আশপাশের লোকজন জড়ো হতে দেখে আক্রমণকারীরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি ও হুঙ্কার দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত বুলেট তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে কেরামত শেখকে কল করে নগদ ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদার সেই টাকা না পেয়েই পরিকল্পিতভাবে এই গভীর রাতের সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।
দুঃসাহসিক এই সন্ত্রাসী ও গুলির ঘটনায় অভয়নগর থানায় সুনির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।
