স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় চক্রের অন্যতম সহযোগী মো. লিটন হাওলাদারকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত লিটন হাওলাদার খুলনার খালিশপুর থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বয়রা পালপাড়া গ্রামের ফারুক হাওলাদার ও শাহিনুর বেগম দম্পতির ছেলে।
পল্টন মডেল থানায় গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জুয়া প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় (মামলা নং-৩৫) দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি এই সাফল্য অর্জন করে।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, এই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি শেখ সাখির আহম্মেদ (৩৩) গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তথ্য প্রদানকালে অনলাইন জুয়ার অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত ১৪ জন দোকানদারের নাম প্রকাশ করেন। তাঁর দেওয়া সেই তথ্যের সূত্র ধরে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুলনার বৈকালী এলাকার ‘লিটন টি স্টল’-এর এজেন্ট সিম মালিক মো. লিটন হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়।
সিআইডি কার্যালয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে লিটন হাওলাদার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সিমটি তিনি খুলনার বয়রা এলাকার এক অটোচালক হানিফের কাছে মাত্র ১০ হাজার টাকার লোভনীয় বিনিময়ে তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই সিমের বিকাশ অ্যাকাউন্টের বিগত দিনের লেনদেনের বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাত্র তিন দিন অর্থাৎ গত ৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে ওই একটিমাত্র অ্যাকাউন্ট দিয়েই অনলাইন জুয়ার সাইটে অবিশ্বাস্যভাবে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ (দুই কোটি ছাব্বিশ লাখ তেত্রিশ হাজার আটশত এক) টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত আসামি শেখ সাখির আহম্মেদের দেওয়া তথ্যের সাথে সম্পূর্ণ সত্যতা পাওয়ায় সিআইডি প্রধান কার্যালয় থেকে মো. লিটন হাওলাদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং একটি সক্রিয় বিকাশ/নগদ এজেন্ট সিম জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিটন হাওলাদার আর্থিক লাভের লোভে নিজের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিমটি জেনেশুনেই অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। মামলার ঘটনার সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য কুশীলব, সহযোগী, মদদদাতা ও নেপথ্যের কারবারিদের দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম ও অভিযান বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
