অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্লারকর্মী তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা !

অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্লারকর্মী তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শেরপুর জেলা শাখা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রাম খুলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে পিবিআই শেরপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করে। নিহত ওই তরুণীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬), পিতা মো. শাকিল মিয়া, সাং-এরশাদনগর, টঙ্গী, গাজীপুর।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ফুফু বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০)। পরবর্তীতে গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পিবিআই শেরপুর জেলা স্বউদ্যোগে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মাহবুবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড় জেলার বোদা থানাধীন দিঘলগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে মো. সজল (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আজ ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে একই এলাকা থেকে মামলার অপর দুই আসামি মো. নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, নিহত ঝিনুক আক্তার টঙ্গী এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। ঘটনার দিন আসামিরা তাঁকে কৌশলে ঢাকার উত্তরখান এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের একপর্যায়ে আসামি মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে ঝিনুক আক্তারকে আঘাত করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় ফাতেমা ভিকটিমকে নৃশংসভাবে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন।

হত্যা নিশ্চিত করার পর আসামিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নিহতের মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর ভরে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়িযোগে শেরপুরের শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার বিষয়ে পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে নিহতের স্বামীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ বা কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *