ফেসবুক পোস্টে মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান

ফেসবুক পোস্টে মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনিক মহলে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি মৃত্যুর দায় চাপিয়ে ফেসবুকে পরপর দুটি বিতর্কিত পোস্ট দিয়েছেন খোদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্ত। এই আকস্মিক ঘটনার পর তাঁর মানসিক অসুস্থতা ও অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে দুটি বিস্ফোরক পোস্ট শেয়ার করা হয়। প্রথম পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তাঁর মৃত্যুর জন্য ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবেন। এর ঠিক কিছুক্ষণ পর আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার।’ এ ধরনের স্পর্শকাতর পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গত প্রায় দুই মাস ধরে আরিফুর রহমান শান্ত জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর সাথে বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা যায়, তিনি কিছুদিন ধরে কিছুটা মানসিক অবসাদ বা সমস্যায় ভুগছিলেন, যা এতদিন ঘরোয়া পরিমণ্ডলেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঘটনার রাতে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদকের তিন বছর বয়সী কন্যার জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিয়েছিলেন এসিল্যান্ড শান্ত। আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটার ওই আয়োজনে তাঁরা অংশও নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে বিপত্তি বাধে অনুষ্ঠান শেষে ইউএনওর বাসভবন থেকে বের হওয়ার পরপরই। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, বাসা থেকে বের হয়েই এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান চরম মাত্রায় অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি রাস্তার চত্বরে এক আনসার সদস্যকে লাঞ্ছিত করেন এবং ইউএনওর তিন বছরের শিশুকন্যাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি রাস্তায় যাকে সামনে পেয়েছেন, সবার সাথেই অত্যন্ত উগ্র ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্ট এবং আকস্মিক হট্টগোলের খবর পেয়ে দ্রুত জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়াসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ ও পরিজনদের উপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীর পরামর্শে তাঁকে শান্ত করার জন্য ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু ওষুধের মাত্রা কম হওয়ায় তাঁর উত্তেজনা থামছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি ইনজেকশন সংগ্রহের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়ভাবে তা পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিলেটে এবং পরবর্তীতে পরিবারের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে বা কোন মানসিক তাড়নায় তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের মনগড়া ও ভিত্তিহীন কথা লিখে আমার নাম উল্লেখ করলেন, তা আমার কাছে সম্পূর্ণ রহস্যজনক ও বোধগম্য নয়।

 ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *